ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরার এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র। ‘চাইনিজ মোমো’ বলে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। টানা ১৭ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত শুক্রবার (২৬শে ডিসেম্বর) তার মৃত্যু হয়।
নিহত ওই ছাত্রের নাম অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪)। তিনি দেরাদুনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
নিহতের বাবা তরুণ চাকমা, যিনি একজন বিএসএফ জওয়ান এবং বর্তমানে মণিপুরে কর্মরত, অভিযোগ করেছেন যে পুলিশ প্রথমে এই ঘটনায় মামলা নিতে চায়নি।
তরুণ চাকমা জানান, গত ৯ই ডিসেম্বর তার দুই ছেলে অ্যাঞ্জেল ও মাইকেল স্থানীয় বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে ৬ জন যুবক তাদের পথ আটকায় এবং মাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। অ্যাঞ্জেল এর প্রতিবাদ করলে তারা তাকে ঘিরে ধরে ‘চাইনিজ মোমো’ ও অন্যান্য বর্ণবাদী গালি দিতে থাকে।
অ্যাঞ্জেল তাদের বলেন, আমি চাইনিজ নই, আমি ভারতীয়। কিন্তু হামলাকারীরা তার কথা না শুনে ছুরি এবং ভারী বস্তু দিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। এতে তার ঘাড় ও মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।
নিহতের বাবার অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অস্বীকার করে। পরে অল ইন্ডিয়া চাকমা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে ঘটনার দুই-তিন দিন পর এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি বিচার চাই।
দেরাদুন পুলিশ জানিয়েছে, কথা কাটাকাটির জেরে ধারালো অস্ত্র এবং হাতের কড়া দিয়ে অ্যাঞ্জেলের মাথায় ও পিঠে আঘাত করা হয়েছিল। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে একজন অভিযুক্ত নেপালে পালিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র এনডিটিভি
















